• মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
করোনাকালীন দেশীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে
করোনাকালীন দেশীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০  |  অনলাইন সংস্করণ

৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্তের পরও আওয়ামী সরকার ১৭ মার্চ মুজিববর্ষ পালনকে ঘিরেই ব্যস্ত থাকে। সরকার করোনা মোকাবেলা করার কার্যকরী প্রস্তুতি তখনও গ্রহণ করেনি। ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে বাধ্য হয়ে সরকার স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে এবং কোনো কার্যকরী লকডাউনের ব্যবস্থা না করে ২৫ মার্চ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এর পর ৪ দফা ছুটি বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ঈদের ছুটি পর্যন্ত বর্ধিত করে। এ সময় গণপরিবহন বন্ধ করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে এবং কয়েক দফা গ্রাম এবং শহরে যাওয়া-আসা করায়। বিশেষজ্ঞগণ দাবি করেছিলেন তিন থেকে ছয় মাস ৪ কোটি মানুষকে বিনা পয়সায় খাওয়ার ব্যবস্থা করে কার্যকরী লকডাউনের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু সরকার তা কর্ণপাত করেনি। উন্নয়নের দাবীদার সরকার এটা কেন করতে পারেনি? তার প্রশ্ন তোলাটাই সঙ্গত। তারা না পেরেছে লকডাউন কার্যকরী করতে, না পেরেছে জনগণের জীবন-জীবিকার সমন্বয় করতে। সরকার এক্ষেত্রে মূলত ব্যর্থ হয়েছে। সরকার ইউরোপ-আমেরিকার উদাহরণ টেনে তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে।

৩১ মে পূর্ব সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আওয়ামী সরকার জনগণের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করার জনহিতকর দৈববাণী প্রচার করে। যখন নাকি করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে চলে এসেছে। শেখ হাসিনা সরকার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়। বরং সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রভু বিশেষত ভারতীয় সম্প্রসারণবাদকে অনুসরণ করে। এর কয়েকদিন আগেই ভারত সরকার জনগণের জীবিকার কথা বলেছিল। হাসিনা সরকার তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই এই ওহী নাযিল করে।

সরকার এই সিদ্ধান্ত যখন নিল তখন করোনায় আক্রান্তের ঊর্ধ্বগতি। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা নির্লজ্জের মতো বলে চলে যে অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ করোনার চেয়ে শক্তিশালী। সরকার অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় আছে দেখাতে কম পরীক্ষা, কম শনাক্ত, কম মৃত্যু- এই অপকৌশল নেয়। যেখানে দৈনিক পত্রিকাগুলো প্রতিদিন করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করছে। যা সরকারি হিসেবের বাইরে। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা কম কেন? লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে সরকারের পদলেহী স্বাস্থ্যবিভাগ বলছে বাংলাদেশে চিকিৎসা ভালো থাকায় মৃত্যু কম হচ্ছে। অথচ প্রতিদিনের সচিত্র খবর হচ্ছে রোগীরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। কিট নেই, ভেন্টিলেটর নেই, অক্সিজেন নেই, আইসিইউ নেই। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই। থাকলেও মানহীন।

করোনার ঊর্ধ্বমুখীকালে অঘোষিত লকডাউন তুলে দিয়ে অফিস-আদালত খুলে দেয়। গণপরিবহন চালু করে, যার মালিকানা মূলত আওয়ামী নেতাদের হাতে। এখানেও শ্রমিকদের জীবিকার প্রশ্ন তুলে তাকে ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করে। মালিকদের স্বার্থে সরকার ৬০% মূলত ডবল ভাড়া বৃদ্ধি করে। যা পৃথিবীর কোথাও দেখা যায়নি। বাস ভাড়া বৃদ্ধি কর্মহীন জনগণের উপর তা মরার উপর খড়ার ঘা হিসেবে দেখা দেয়। এই যে পরিবহন শ্রমিকদের জীবিকার প্রশ্ন তুলে সরকার গণপরিবহন চালু করল তা কতটা যৌক্তিক? বছরের পর বছর ধরে পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে শত শত কোটি চাঁদাবাজী করেছে সেই টাকা এ সময় কোনো কাজে লাগানো হয়নি। সেই টাকার হিসাবও নেয়া হয়নি এবং চাঁদাবাজদের সরকার কোনো শাস্তির ব্যবস্থা করেনি। হাসিনা সরকারের উন্নয়নের যে এত গলাবাজী তা গেল কোথায়? বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবমত সরকার ৪ কোটি জনগণকে ছয় মাসের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারল না। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সেই টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে! শুধু তাই নয়, জীবিকার প্রশ্ন তুলে বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থে মার্কেট, শপিং মল, দোকানপাট খুলে দেয়। এমনকি মৌলবাদীদের চাপে/ভয়ে মসজিদও খুলে দেয়া হয়। এভাবে করোনা ছড়িয়ে দেয়ার মহাবিপদের দিকে জনগণকে ঠেলে দেয়া হয়।

কম পরীক্ষা, কম শনাক্ত নীতির প্রেক্ষিতে জনমতের চাপে পড়ে পরীক্ষা কিছু বাড়ালে দেখা গেছে করোনা পরিস্থিতির দ্রৃত অবনতি হচ্ছে, জুন মাসেই লক্ষাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তির ক্ষুণ্ন হবার পথে, তখন সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন অজুহাতে ফি ধার্য করা হয় যাতে পরীক্ষা কম হয়। জনগণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পরীক্ষার সিরিয়াল পাচ্ছেন না, সেখানে টাকা জমা দেয়ার অতিরিক্ত বিড়ম্বনায় পড়ে পরীক্ষা করার প্রতিই তাদের অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরীক্ষায় বিমুখ হলে সরকারের ভাবমূর্তি বাড়বে বৈকি! পরীক্ষা হলেও ফলাফল পেতে ৮/১০ দিন লেগে যায়।

সরকারের গলাবাজী সত্ত্বেও জনমতে দেখা যাচ্ছে সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। পত্রিকায় প্রতিদিন এই ব্যর্থতার খবর বের হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে ব্যবসা করছে জনগণের অসহায়ত্বের সুযোগে। চিকিৎসা কর্মীরা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেই। প্রচার আছে কোনো কোনো হাসপাতালে ২/৪টা আইসিইউ যা আছে তা বর্ধিত টাকা দিয়ে ১/২ মাসের আগাম ভাড়া করে রেখেছে প্রভাবশালী ও অর্থশালী মহল। সিএমএইচ-কে প্রধানমন্ত্রীর প্রিয়ভাজনদের জন্য রির্জাভ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ডাক্তারদের জন্য এই হাসপাতালটি রির্জাভ করা হয়নি। জনগণের একাংশ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ কিনছে, খাচ্ছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার নিজেরা কিনে ঘরে মজুদ করছে ভবিষ্যতের জন্য। কী বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মানুষ তা করে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি নিম্নতম আস্থা থাকলে জনগণ এই বিপজ্জনক পথে যেতে পারে না।

সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সরকারি পদক্ষেপের সমালোচনার মুখে এবং শাসকশ্রেণির একেবারে উচ্চ পর্যায়ে করোনা আঘাত হানা এবং কিছু লোকের মৃত্যুর পর নতুন করে লকডাউনের লোক দেখানো তোড়জোড় শুরু হয়। সাধারণ ছুটির পর এখন ‘সত্যিকারের’ লকডাউনের কথা বলে লাল, হলুদ ও সবুজ-এই তিন জোনের কথা বলছে। রেড জোন ঘোষণা করেও তার বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ করছে। যা বড় ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস ও পরিবহন মালিকদের স্বার্থে ও পরামর্শেই যে করা হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই তথাকথিত লকডাউন দেশব্যাপী পরিস্থিতিকে উন্নত করতে যে ব্যর্থ হবে সেটা বিশেষজ্ঞ মহল ও বুদ্ধিজীবীগণ আগে ভাগেই বলে দিয়েছেন। একটি জায়গায় একজন ব্যক্তি আক্রান্ত হলে সে ভাইরাস ছড়াবে। এই বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত লকডাউন তা থামাতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ ছুটি মার্কা লকডাউনের ব্যর্থতার পর সেটা ঢেকে দেয়ার এটি একটা অপকৌশল। বহু এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা লকডাউন করতে চাচ্ছে না। লকডাউনের সময়ক্ষেপণের এটিও একটি কারণ। ফলে সরকারি মহলে এ বিষয়ে দ্বন্দ্ব চলছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

আওয়ামী মার্কা এই লকডাউনে দরিদ্র জনগণ এবং ব্যাপক মধ্যবিত্ত জনগণ নতুন করে ভোগান্তিতে পড়ছে। মানুষ বিরক্ত হচ্ছে। সরকার বলছে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, সারা বিশ্বের এই পরিস্থিতি চলছে। তারা আমেরিকা, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালির উদাহরণ টেনে বলছে তারাই সামাল দিতে পারছে না, আমরা আর কী করতে পারি!

এমন মহামারী পরিস্থিতিতেও আওয়ামী নেতা, মাস্তান, আমলা ও ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না। ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি ছাড়িয়ে তা চলছে স্বাস্থ্যখাতে। বিশ্বব্যাংকের ১,৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতি, মাস্ক দুর্নীতির দায়ে স্বাস্থ্যসচিবের পদাবনতি, তা গোপন করা, পরে প্রমোশন দেয়া, ইত্যাদি নাটক চলে পর্দার অন্তরালে। বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ১০০ দিন পূর্তির প্রাক্কালে টিআইবির দেওয়া রিপোর্টে বলেছে এই দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি বাড়তি দামে মানহীন মাস্ক, পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকার টিআইবির এই রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু কালের কণ্ঠ প্রকাশিত ৮ জুনের রিপোর্ট বলেছে ৫০০ টাকার গগলস ৫,০০০ টাকা, ২ হাজার টাকার পিপিই ৪,৭০০ টাকা, ৫০০ টাকার বুট জুতা ১,৫০০ টাকা হিসাবে খরচ দেখানো হয়েছে। এছাড়া বহু খাতের খরচ এমন দেখিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে। এই সব প্রশ্ন উঠলেই গণবিরোধী এই সরকার তা ধামাচাপা দিচ্ছে। বরং যারা এমন প্রশ্ন তুলেছেন তাদের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক নিম্নমানের মাস্ক গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর ‘অপরাধে’ তাকে শাস্তিমূলক বদলি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পাবনা হেমায়েতপুরের মানসিক হাসপাতালে। এন-৯৫ মাস্কের প্যাকেটে নকল মাস্ক সরবরাহ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে করা হয়েছে ওএসডি। অথচ করোনায় আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারদের মৃত্যু হার পুরো পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ। তার প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত ও নকল মাস্ক বলেই চিকিৎসকগণ মনে করেন। (সূত্র দেশ রূপান্তর, ০৬ জুলাই, ২০২০)। ডাক্তারদের মৃত্যুর জন্য এই দুর্নীতিবাজ চক্র এবং তাদের প্রশ্রয়দাতা সরকারই প্রধানত দায়ী। এমনকি করোনা সার্টিফিকেট পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই সব দুর্নীতিবাজদের কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া বাড়ি আছে বলে খবরে প্রকাশ।

এই সব দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে বুর্জোয়া মিডিয়াগুলোর বদলে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় হাসিনা সরকার ‘ডিজিটাল’ আইনকে কাজে লাগিয়ে গুজব রটনার দায়ে বহু স্ট্যাটাস প্রদানকারীকে গ্রেফতার করেছে। অথচ আওয়ামী সরকার প্রতিদিন সরকারি খরচে মিথ্যা কথা বলে চলেছে। তারা বলছে তাদের ভালো প্রস্তুতির কারণেই নাকি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কম, ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে মৃত্যু কম। তারা ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, ভুটান, নেপালের প্রতি চোখ বন্ধ রেখে এমন মিথ্যার আস্ফালন করছে- পৃথিবীর মধ্যে তারাই শ্রেষ্ট। এর চেয়ে বড় গুজব আর কী হতে পারে?

আওয়ামী সরকারের এমন গলাবাজীতে যখন মানুষের কান ঝালাপালা তখন দেখা যাক দেশে জনগণের হাল হকিকত কী?  দেশে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর কোনো শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। ১০ লক্ষ শিক্ষক কর্মহীন, নারীদের উপর বর্ধিত নিপীড়ন চলছে। শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। যাদের অধিকাংশ নারী। গৃহশ্রমিকরা কাজ হারিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। যৌন ব্যবসা বহাল তবিয়তে রেখেছে পুুরুষতান্ত্রিক এই সরকার। অথচ এই সংকটে তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থাই করছে না।

  ধান-চালের ভরা মৌসুমেও চালের দাম বেড়েছে কেজিতে দশ টাকা। সব্জিসহ নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। জনগণের জীবনযাত্রার মান অভাবনীয় হারে নিচে নেমে গেছে। কর্মহীন মানুষ ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত নারী ও শিশুদের অনেকাংশের ঘরে থেকে মানসিক সমস্যা বেড়ে গেছে।

ঈদকে সামনে রেখে কোনো বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা ছাড়াই কোরবানির পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে। সরকার তা করছে আওয়ামী ঘরানার ইজারাদারদের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং জনগণের ধর্মীয় অনুভ‚তিকে কাজে লাগানোর জন্য। এটা করেছে করোনার প্রচন্ড ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও। বড় শপিংমল মালিকদের এবং আওয়ামী গডফাদার-পুলিশী চাঁদাবাজীর স্বার্থে এই করোনা ঝুঁকির মধ্যেও বেশি সময় খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। ধর্মীয় মৌলবাদীরা মাদ্রাসা খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করছে, তারা বিজ্ঞান বিরোধী প্রচার অব্যাহত রেখেছে। সরকারও তা চালাতে দিচ্ছে।

করোনাকালে ভাড়াটিয়াদের সংকটে সরকার টু-শব্দটি করেনি, করছে না। অথচ এই ঢাকাতেই ৮০% মানুষ ভাড়া বাড়ি বা মেসে থাকেন। খবরে প্রকাশ ছাত্রদের মালামাল বাড়িওয়ালা ফেলে দিচ্ছে। দরিদ্র লোকজনদের বাড়িওয়ালারা বাড়িভাড়া না দিতে পারায় ঘরে তালা মেরে রেখে নির্যাতন করছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার কিছুই করছে না। বরং পুলিশ গিয়ে লোক দেখানো দরদ দেখালেও তার অন্তরালে রয়েছে ভিন্ন চিত্র। বাড়িওয়ালাদের মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদাবাজী করছে। এই বাড়িওয়ালাদের ভাড়া মাফ করা, কম নেয়া, বাকি রাখা বা তাদের ঋণ সুবিধা দেয়ার বা গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানির বিল মাফ বা কম নেয়ার কোনো ঘোষণাই সরকার দেয়নি।

তারা করোনাকালে জনগণকে বাঁচানোর জন্য বাজেটে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ করেনি। পাটশিল্প ধ্বংস করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করেছে। পাটশিল্পকে ধ্বংস করার পেছনেও রয়েছে ভারতের স্বার্থ।

আওয়ামী সরকার ভারতের স্বার্থরক্ষা করেই চলেছে। ভারত সরকার গত বছর পেঁয়াজ নিয়ে এত কারসাজি করার পরও এই ভরা মৌসুমে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে। কৃষকের পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করছে। সীমান্তে হত্যা চলছে। নতজানু সরকার কোনো প্রতিবাদই করছে না।

বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, করোনা বাহ্যিকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও এর পেছনে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার মুনাফার কুফল। তারই অশনি সংকেত এই করোনা। এই ব্যবস্থা-ই তাকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। এই করোনাকালে বিশেষজ্ঞগণ এর বিস্তর ব্যাখ্যা করে চলেছেন। দালাল শাসকশ্রেণি, আওয়ামী সরকার এই বিশ্বব্যবস্থার সৃষ্টি। এই করোনাকালেও আরেকবার প্রমাণ হলো শাসকশ্রেণি, আওয়ামী সরকার চরম গণবিরোধী এবং ব্যর্থ সরকার। সৃজনশীলভাবে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশ্ব প্রভুদের দেখানো পথেই হেঁটেছে, সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

তাই গণবিরোধী সরকারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠা না করলে জনগণ গণমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পাবেন না। গণমুখী অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন না। দুর্নীতি এ ব্যবস্থার অঙ্গ। প্রতিটি সেক্টরেই তা চলে, চলতে থাকবে। কালো টাকা সাদা হবে। দুর্নীতিবাজ শাসকশ্রেণির টাকার পাহাড় ফুলে-ফেঁপে উঠবে। জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলবে। তাই জনগণকে আশু ও জরুরি সমস্যার সমাধানের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং শোষণ-দুর্নীতিমূলক সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য বিপ্লবী আন্দোলন ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে হবে। জনগণের বিজয় অনিবার্য।

করোনাকালের বিশেষ পরিস্থিতিতে জনগণের আশু ও জরুরি সমস্যার উপর গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজনে নিচে কিছু জরুরী দাবি তুলে ধরা হলো-

 

১। করোনা পরীক্ষার সকল ফি ও চিকিৎসা বিনামূল্যে করতে হবে!

-  বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী র‌্যাপিড কিট দিয়ে পরীক্ষা চালু করতে হবে!

- কম পরীক্ষা, কম শনাক্ত- এই ষড়যন্ত্রমূলক পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে!

- বাজেটের অন্তত ২০% স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করতে হবে!

- ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা ১০০% নিশ্চিত করতে হবে!

- ভিআইপিদের বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসায় বৈষম্য করা চলবে না!

-স্বাস্থ্যখাতসহ সকল খাতে দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে! 

২। রাষ্ট্রায়াত্ত পাটশিল্পকে বন্ধ করা চলবে না এবং বেসরকারিকরণ পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে!

৩। গার্মেন্টসহ সকল শিল্প-কারখানা থেকে শ্রমিক ছাঁটাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে!

- সকল বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে!

- সকল শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং করোনায় আক্রান্তদের সুচিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে!

৪। পরিবহন ভাড়া-বৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে!

- পরিবহনে ইজারা-প্রথা তুলে দিতে হবে। সকল শ্রমিকদের মাসিক-বেতন-ভাতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে!

- পরিবহনে চাঁদাবাজী, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

৫। বাসা/মেস ভাড়া ৩ মাসের জন্য মওকুফ করার জন্য সরকারি ঘোষণা দিতে হবে!

- পরবর্তী মাসগুলোতে অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে!

- ভাড়াটিয়া খেদানো বাড়িওয়ালা/মেস মালিকদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে!

- বাড়ী ভাড়ায় চলেন এমন বাড়িওয়ালাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে!

- বাসা বাড়ির বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল তিন মাসের জন্য মওকুফ করতে হবে!

৬। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ এবং কৃষকের পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে!

- যে কোনো সময়ে ভারত পণ্য নিতে অনীহা প্রকাশ করলে সাথে সাথে ভারত থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখতে হবে!

- সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে!

৭। করোনাকালে ডিজিটাল শি পদ্ধতিতে বৈষম্য সৃষ্টি করা চলবে না!

- সমস্ত শিক্ষাকে ডিজিটালি চালু করতে হবে এবং স্মার্টফোনের বদলে টিভিতে সেগুলো প্রচার করতে হবে!

- বেকার হওয়া শিক্ষকদের কর্মসংস্থান করতে হবে না হলে বেকার ভাতা দিতে হবে!

- ইন্টারনেট ও মোবাইল কল রেট কমাতে হবে!

৮। গৃহকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে তাদেরকে জরুরি ত্রাণ ও কাজের আওতায় আনতে হবে!

- কর্মরত গৃহকর্মীদের শারীরিক নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে!

           ৯। পতিতাদের আপাতত বেঁচে থাকার জন্য দ্রæত ত্রাণব্যবস্থা করা ও অব্যাহত রাখতে হবে।

১০। অবিলম্বে ‘ডিজিটাল আইন’ বাতিল করতে হবে!

- সরকারের সমালোচকদের ডিজিটাল আইনে হয়রানি বন্ধ করতে হবে!

- এই আইনে গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে!

১১। সকল ব্যয়সাধ্য বিনোদন, মার্কেট, বিদেশি পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখতে হবে!

১২। কৃষি অর্থনীতিকে ভিত্তি করে কৃষি-ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে। বিদেশ-নির্ভর শিল্প-নীতি বর্জন করতে হবে!

- কৃষকদের বিনা সুদে বা সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে!

- কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে!

১৩। সকল সনাতন পশুর হাট বন্ধ করতে হবে!

- কোরবানির পশু সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে!

- এ জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে শিক্ষিত তরুণ-যুবকদের কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে!

- কোরবানির পশুর চামড়া ন্যায্যমূল্যে কেনার সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে!

১৪। করোনা সম্পর্কে মৌলবাদী ধর্মান্ধ প্রচারণাকে নিষিদ্ধ করতে হবে, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রচার-প্রোপাগাাকে জোরদার করতে হবে!

১৫। বন্যাকবলিত জনদুর্ভোগ লাঘবে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ ঔষধের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে!     

- নদী ভাঙ্গা জনগণের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে!

১৬। ক্রসফায়ার, বন্দুক যুদ্ধের নামে বিচার বহিভর্‚ত হত্যা বন্ধ করতে হবে!

উপরোক্ত জরুরী ও আশু দাবির ভিত্তিতে গণআন্দোলন গড়ে তুলুন, জোরদার করুন- (সম্পাদনা বোর্ড)

করোনাকালীন দেশীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০  |  অনলাইন সংস্করণ

৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্তের পরও আওয়ামী সরকার ১৭ মার্চ মুজিববর্ষ পালনকে ঘিরেই ব্যস্ত থাকে। সরকার করোনা মোকাবেলা করার কার্যকরী প্রস্তুতি তখনও গ্রহণ করেনি। ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে বাধ্য হয়ে সরকার স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে এবং কোনো কার্যকরী লকডাউনের ব্যবস্থা না করে ২৫ মার্চ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এর পর ৪ দফা ছুটি বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ঈদের ছুটি পর্যন্ত বর্ধিত করে। এ সময় গণপরিবহন বন্ধ করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে এবং কয়েক দফা গ্রাম এবং শহরে যাওয়া-আসা করায়। বিশেষজ্ঞগণ দাবি করেছিলেন তিন থেকে ছয় মাস ৪ কোটি মানুষকে বিনা পয়সায় খাওয়ার ব্যবস্থা করে কার্যকরী লকডাউনের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু সরকার তা কর্ণপাত করেনি। উন্নয়নের দাবীদার সরকার এটা কেন করতে পারেনি? তার প্রশ্ন তোলাটাই সঙ্গত। তারা না পেরেছে লকডাউন কার্যকরী করতে, না পেরেছে জনগণের জীবন-জীবিকার সমন্বয় করতে। সরকার এক্ষেত্রে মূলত ব্যর্থ হয়েছে। সরকার ইউরোপ-আমেরিকার উদাহরণ টেনে তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে।

৩১ মে পূর্ব সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আওয়ামী সরকার জনগণের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করার জনহিতকর দৈববাণী প্রচার করে। যখন নাকি করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে চলে এসেছে। শেখ হাসিনা সরকার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়। বরং সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রভু বিশেষত ভারতীয় সম্প্রসারণবাদকে অনুসরণ করে। এর কয়েকদিন আগেই ভারত সরকার জনগণের জীবিকার কথা বলেছিল। হাসিনা সরকার তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই এই ওহী নাযিল করে।

সরকার এই সিদ্ধান্ত যখন নিল তখন করোনায় আক্রান্তের ঊর্ধ্বগতি। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা নির্লজ্জের মতো বলে চলে যে অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ করোনার চেয়ে শক্তিশালী। সরকার অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় আছে দেখাতে কম পরীক্ষা, কম শনাক্ত, কম মৃত্যু- এই অপকৌশল নেয়। যেখানে দৈনিক পত্রিকাগুলো প্রতিদিন করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করছে। যা সরকারি হিসেবের বাইরে। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা কম কেন? লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে সরকারের পদলেহী স্বাস্থ্যবিভাগ বলছে বাংলাদেশে চিকিৎসা ভালো থাকায় মৃত্যু কম হচ্ছে। অথচ প্রতিদিনের সচিত্র খবর হচ্ছে রোগীরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। কিট নেই, ভেন্টিলেটর নেই, অক্সিজেন নেই, আইসিইউ নেই। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই। থাকলেও মানহীন।

করোনার ঊর্ধ্বমুখীকালে অঘোষিত লকডাউন তুলে দিয়ে অফিস-আদালত খুলে দেয়। গণপরিবহন চালু করে, যার মালিকানা মূলত আওয়ামী নেতাদের হাতে। এখানেও শ্রমিকদের জীবিকার প্রশ্ন তুলে তাকে ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করে। মালিকদের স্বার্থে সরকার ৬০% মূলত ডবল ভাড়া বৃদ্ধি করে। যা পৃথিবীর কোথাও দেখা যায়নি। বাস ভাড়া বৃদ্ধি কর্মহীন জনগণের উপর তা মরার উপর খড়ার ঘা হিসেবে দেখা দেয়। এই যে পরিবহন শ্রমিকদের জীবিকার প্রশ্ন তুলে সরকার গণপরিবহন চালু করল তা কতটা যৌক্তিক? বছরের পর বছর ধরে পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে শত শত কোটি চাঁদাবাজী করেছে সেই টাকা এ সময় কোনো কাজে লাগানো হয়নি। সেই টাকার হিসাবও নেয়া হয়নি এবং চাঁদাবাজদের সরকার কোনো শাস্তির ব্যবস্থা করেনি। হাসিনা সরকারের উন্নয়নের যে এত গলাবাজী তা গেল কোথায়? বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবমত সরকার ৪ কোটি জনগণকে ছয় মাসের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারল না। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সেই টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে! শুধু তাই নয়, জীবিকার প্রশ্ন তুলে বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থে মার্কেট, শপিং মল, দোকানপাট খুলে দেয়। এমনকি মৌলবাদীদের চাপে/ভয়ে মসজিদও খুলে দেয়া হয়। এভাবে করোনা ছড়িয়ে দেয়ার মহাবিপদের দিকে জনগণকে ঠেলে দেয়া হয়।

কম পরীক্ষা, কম শনাক্ত নীতির প্রেক্ষিতে জনমতের চাপে পড়ে পরীক্ষা কিছু বাড়ালে দেখা গেছে করোনা পরিস্থিতির দ্রৃত অবনতি হচ্ছে, জুন মাসেই লক্ষাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তির ক্ষুণ্ন হবার পথে, তখন সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন অজুহাতে ফি ধার্য করা হয় যাতে পরীক্ষা কম হয়। জনগণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পরীক্ষার সিরিয়াল পাচ্ছেন না, সেখানে টাকা জমা দেয়ার অতিরিক্ত বিড়ম্বনায় পড়ে পরীক্ষা করার প্রতিই তাদের অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরীক্ষায় বিমুখ হলে সরকারের ভাবমূর্তি বাড়বে বৈকি! পরীক্ষা হলেও ফলাফল পেতে ৮/১০ দিন লেগে যায়।

সরকারের গলাবাজী সত্ত্বেও জনমতে দেখা যাচ্ছে সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। পত্রিকায় প্রতিদিন এই ব্যর্থতার খবর বের হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে ব্যবসা করছে জনগণের অসহায়ত্বের সুযোগে। চিকিৎসা কর্মীরা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেই। প্রচার আছে কোনো কোনো হাসপাতালে ২/৪টা আইসিইউ যা আছে তা বর্ধিত টাকা দিয়ে ১/২ মাসের আগাম ভাড়া করে রেখেছে প্রভাবশালী ও অর্থশালী মহল। সিএমএইচ-কে প্রধানমন্ত্রীর প্রিয়ভাজনদের জন্য রির্জাভ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ডাক্তারদের জন্য এই হাসপাতালটি রির্জাভ করা হয়নি। জনগণের একাংশ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ কিনছে, খাচ্ছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার নিজেরা কিনে ঘরে মজুদ করছে ভবিষ্যতের জন্য। কী বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মানুষ তা করে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি নিম্নতম আস্থা থাকলে জনগণ এই বিপজ্জনক পথে যেতে পারে না।

সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সরকারি পদক্ষেপের সমালোচনার মুখে এবং শাসকশ্রেণির একেবারে উচ্চ পর্যায়ে করোনা আঘাত হানা এবং কিছু লোকের মৃত্যুর পর নতুন করে লকডাউনের লোক দেখানো তোড়জোড় শুরু হয়। সাধারণ ছুটির পর এখন ‘সত্যিকারের’ লকডাউনের কথা বলে লাল, হলুদ ও সবুজ-এই তিন জোনের কথা বলছে। রেড জোন ঘোষণা করেও তার বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ করছে। যা বড় ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস ও পরিবহন মালিকদের স্বার্থে ও পরামর্শেই যে করা হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই তথাকথিত লকডাউন দেশব্যাপী পরিস্থিতিকে উন্নত করতে যে ব্যর্থ হবে সেটা বিশেষজ্ঞ মহল ও বুদ্ধিজীবীগণ আগে ভাগেই বলে দিয়েছেন। একটি জায়গায় একজন ব্যক্তি আক্রান্ত হলে সে ভাইরাস ছড়াবে। এই বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত লকডাউন তা থামাতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ ছুটি মার্কা লকডাউনের ব্যর্থতার পর সেটা ঢেকে দেয়ার এটি একটা অপকৌশল। বহু এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা লকডাউন করতে চাচ্ছে না। লকডাউনের সময়ক্ষেপণের এটিও একটি কারণ। ফলে সরকারি মহলে এ বিষয়ে দ্বন্দ্ব চলছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

আওয়ামী মার্কা এই লকডাউনে দরিদ্র জনগণ এবং ব্যাপক মধ্যবিত্ত জনগণ নতুন করে ভোগান্তিতে পড়ছে। মানুষ বিরক্ত হচ্ছে। সরকার বলছে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, সারা বিশ্বের এই পরিস্থিতি চলছে। তারা আমেরিকা, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালির উদাহরণ টেনে বলছে তারাই সামাল দিতে পারছে না, আমরা আর কী করতে পারি!

এমন মহামারী পরিস্থিতিতেও আওয়ামী নেতা, মাস্তান, আমলা ও ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না। ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি ছাড়িয়ে তা চলছে স্বাস্থ্যখাতে। বিশ্বব্যাংকের ১,৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতি, মাস্ক দুর্নীতির দায়ে স্বাস্থ্যসচিবের পদাবনতি, তা গোপন করা, পরে প্রমোশন দেয়া, ইত্যাদি নাটক চলে পর্দার অন্তরালে। বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ১০০ দিন পূর্তির প্রাক্কালে টিআইবির দেওয়া রিপোর্টে বলেছে এই দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি বাড়তি দামে মানহীন মাস্ক, পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকার টিআইবির এই রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু কালের কণ্ঠ প্রকাশিত ৮ জুনের রিপোর্ট বলেছে ৫০০ টাকার গগলস ৫,০০০ টাকা, ২ হাজার টাকার পিপিই ৪,৭০০ টাকা, ৫০০ টাকার বুট জুতা ১,৫০০ টাকা হিসাবে খরচ দেখানো হয়েছে। এছাড়া বহু খাতের খরচ এমন দেখিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে। এই সব প্রশ্ন উঠলেই গণবিরোধী এই সরকার তা ধামাচাপা দিচ্ছে। বরং যারা এমন প্রশ্ন তুলেছেন তাদের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক নিম্নমানের মাস্ক গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর ‘অপরাধে’ তাকে শাস্তিমূলক বদলি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পাবনা হেমায়েতপুরের মানসিক হাসপাতালে। এন-৯৫ মাস্কের প্যাকেটে নকল মাস্ক সরবরাহ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে করা হয়েছে ওএসডি। অথচ করোনায় আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারদের মৃত্যু হার পুরো পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ। তার প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত ও নকল মাস্ক বলেই চিকিৎসকগণ মনে করেন। (সূত্র দেশ রূপান্তর, ০৬ জুলাই, ২০২০)। ডাক্তারদের মৃত্যুর জন্য এই দুর্নীতিবাজ চক্র এবং তাদের প্রশ্রয়দাতা সরকারই প্রধানত দায়ী। এমনকি করোনা সার্টিফিকেট পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই সব দুর্নীতিবাজদের কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া বাড়ি আছে বলে খবরে প্রকাশ।

এই সব দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে বুর্জোয়া মিডিয়াগুলোর বদলে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় হাসিনা সরকার ‘ডিজিটাল’ আইনকে কাজে লাগিয়ে গুজব রটনার দায়ে বহু স্ট্যাটাস প্রদানকারীকে গ্রেফতার করেছে। অথচ আওয়ামী সরকার প্রতিদিন সরকারি খরচে মিথ্যা কথা বলে চলেছে। তারা বলছে তাদের ভালো প্রস্তুতির কারণেই নাকি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কম, ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে মৃত্যু কম। তারা ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, ভুটান, নেপালের প্রতি চোখ বন্ধ রেখে এমন মিথ্যার আস্ফালন করছে- পৃথিবীর মধ্যে তারাই শ্রেষ্ট। এর চেয়ে বড় গুজব আর কী হতে পারে?

আওয়ামী সরকারের এমন গলাবাজীতে যখন মানুষের কান ঝালাপালা তখন দেখা যাক দেশে জনগণের হাল হকিকত কী?  দেশে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর কোনো শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। ১০ লক্ষ শিক্ষক কর্মহীন, নারীদের উপর বর্ধিত নিপীড়ন চলছে। শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। যাদের অধিকাংশ নারী। গৃহশ্রমিকরা কাজ হারিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। যৌন ব্যবসা বহাল তবিয়তে রেখেছে পুুরুষতান্ত্রিক এই সরকার। অথচ এই সংকটে তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থাই করছে না।

  ধান-চালের ভরা মৌসুমেও চালের দাম বেড়েছে কেজিতে দশ টাকা। সব্জিসহ নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। জনগণের জীবনযাত্রার মান অভাবনীয় হারে নিচে নেমে গেছে। কর্মহীন মানুষ ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত নারী ও শিশুদের অনেকাংশের ঘরে থেকে মানসিক সমস্যা বেড়ে গেছে।

ঈদকে সামনে রেখে কোনো বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা ছাড়াই কোরবানির পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে। সরকার তা করছে আওয়ামী ঘরানার ইজারাদারদের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং জনগণের ধর্মীয় অনুভ‚তিকে কাজে লাগানোর জন্য। এটা করেছে করোনার প্রচন্ড ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও। বড় শপিংমল মালিকদের এবং আওয়ামী গডফাদার-পুলিশী চাঁদাবাজীর স্বার্থে এই করোনা ঝুঁকির মধ্যেও বেশি সময় খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। ধর্মীয় মৌলবাদীরা মাদ্রাসা খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করছে, তারা বিজ্ঞান বিরোধী প্রচার অব্যাহত রেখেছে। সরকারও তা চালাতে দিচ্ছে।

করোনাকালে ভাড়াটিয়াদের সংকটে সরকার টু-শব্দটি করেনি, করছে না। অথচ এই ঢাকাতেই ৮০% মানুষ ভাড়া বাড়ি বা মেসে থাকেন। খবরে প্রকাশ ছাত্রদের মালামাল বাড়িওয়ালা ফেলে দিচ্ছে। দরিদ্র লোকজনদের বাড়িওয়ালারা বাড়িভাড়া না দিতে পারায় ঘরে তালা মেরে রেখে নির্যাতন করছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার কিছুই করছে না। বরং পুলিশ গিয়ে লোক দেখানো দরদ দেখালেও তার অন্তরালে রয়েছে ভিন্ন চিত্র। বাড়িওয়ালাদের মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদাবাজী করছে। এই বাড়িওয়ালাদের ভাড়া মাফ করা, কম নেয়া, বাকি রাখা বা তাদের ঋণ সুবিধা দেয়ার বা গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানির বিল মাফ বা কম নেয়ার কোনো ঘোষণাই সরকার দেয়নি।

তারা করোনাকালে জনগণকে বাঁচানোর জন্য বাজেটে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ করেনি। পাটশিল্প ধ্বংস করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করেছে। পাটশিল্পকে ধ্বংস করার পেছনেও রয়েছে ভারতের স্বার্থ।

আওয়ামী সরকার ভারতের স্বার্থরক্ষা করেই চলেছে। ভারত সরকার গত বছর পেঁয়াজ নিয়ে এত কারসাজি করার পরও এই ভরা মৌসুমে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে। কৃষকের পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করছে। সীমান্তে হত্যা চলছে। নতজানু সরকার কোনো প্রতিবাদই করছে না।

বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, করোনা বাহ্যিকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও এর পেছনে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার মুনাফার কুফল। তারই অশনি সংকেত এই করোনা। এই ব্যবস্থা-ই তাকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। এই করোনাকালে বিশেষজ্ঞগণ এর বিস্তর ব্যাখ্যা করে চলেছেন। দালাল শাসকশ্রেণি, আওয়ামী সরকার এই বিশ্বব্যবস্থার সৃষ্টি। এই করোনাকালেও আরেকবার প্রমাণ হলো শাসকশ্রেণি, আওয়ামী সরকার চরম গণবিরোধী এবং ব্যর্থ সরকার। সৃজনশীলভাবে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশ্ব প্রভুদের দেখানো পথেই হেঁটেছে, সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

তাই গণবিরোধী সরকারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠা না করলে জনগণ গণমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পাবেন না। গণমুখী অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন না। দুর্নীতি এ ব্যবস্থার অঙ্গ। প্রতিটি সেক্টরেই তা চলে, চলতে থাকবে। কালো টাকা সাদা হবে। দুর্নীতিবাজ শাসকশ্রেণির টাকার পাহাড় ফুলে-ফেঁপে উঠবে। জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলবে। তাই জনগণকে আশু ও জরুরি সমস্যার সমাধানের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং শোষণ-দুর্নীতিমূলক সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য বিপ্লবী আন্দোলন ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে হবে। জনগণের বিজয় অনিবার্য।

করোনাকালের বিশেষ পরিস্থিতিতে জনগণের আশু ও জরুরি সমস্যার উপর গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজনে নিচে কিছু জরুরী দাবি তুলে ধরা হলো-

 

১। করোনা পরীক্ষার সকল ফি ও চিকিৎসা বিনামূল্যে করতে হবে!

-  বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী র‌্যাপিড কিট দিয়ে পরীক্ষা চালু করতে হবে!

- কম পরীক্ষা, কম শনাক্ত- এই ষড়যন্ত্রমূলক পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে!

- বাজেটের অন্তত ২০% স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করতে হবে!

- ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা ১০০% নিশ্চিত করতে হবে!

- ভিআইপিদের বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসায় বৈষম্য করা চলবে না!

-স্বাস্থ্যখাতসহ সকল খাতে দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে! 

২। রাষ্ট্রায়াত্ত পাটশিল্পকে বন্ধ করা চলবে না এবং বেসরকারিকরণ পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে!

৩। গার্মেন্টসহ সকল শিল্প-কারখানা থেকে শ্রমিক ছাঁটাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে!

- সকল বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে!

- সকল শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং করোনায় আক্রান্তদের সুচিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে!

৪। পরিবহন ভাড়া-বৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে!

- পরিবহনে ইজারা-প্রথা তুলে দিতে হবে। সকল শ্রমিকদের মাসিক-বেতন-ভাতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে!

- পরিবহনে চাঁদাবাজী, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

৫। বাসা/মেস ভাড়া ৩ মাসের জন্য মওকুফ করার জন্য সরকারি ঘোষণা দিতে হবে!

- পরবর্তী মাসগুলোতে অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে!

- ভাড়াটিয়া খেদানো বাড়িওয়ালা/মেস মালিকদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে!

- বাড়ী ভাড়ায় চলেন এমন বাড়িওয়ালাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে!

- বাসা বাড়ির বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল তিন মাসের জন্য মওকুফ করতে হবে!

৬। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ এবং কৃষকের পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে!

- যে কোনো সময়ে ভারত পণ্য নিতে অনীহা প্রকাশ করলে সাথে সাথে ভারত থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখতে হবে!

- সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে!

৭। করোনাকালে ডিজিটাল শি পদ্ধতিতে বৈষম্য সৃষ্টি করা চলবে না!

- সমস্ত শিক্ষাকে ডিজিটালি চালু করতে হবে এবং স্মার্টফোনের বদলে টিভিতে সেগুলো প্রচার করতে হবে!

- বেকার হওয়া শিক্ষকদের কর্মসংস্থান করতে হবে না হলে বেকার ভাতা দিতে হবে!

- ইন্টারনেট ও মোবাইল কল রেট কমাতে হবে!

৮। গৃহকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে তাদেরকে জরুরি ত্রাণ ও কাজের আওতায় আনতে হবে!

- কর্মরত গৃহকর্মীদের শারীরিক নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে!

           ৯। পতিতাদের আপাতত বেঁচে থাকার জন্য দ্রæত ত্রাণব্যবস্থা করা ও অব্যাহত রাখতে হবে।

১০। অবিলম্বে ‘ডিজিটাল আইন’ বাতিল করতে হবে!

- সরকারের সমালোচকদের ডিজিটাল আইনে হয়রানি বন্ধ করতে হবে!

- এই আইনে গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে!

১১। সকল ব্যয়সাধ্য বিনোদন, মার্কেট, বিদেশি পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখতে হবে!

১২। কৃষি অর্থনীতিকে ভিত্তি করে কৃষি-ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে। বিদেশ-নির্ভর শিল্প-নীতি বর্জন করতে হবে!

- কৃষকদের বিনা সুদে বা সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে!

- কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে!

১৩। সকল সনাতন পশুর হাট বন্ধ করতে হবে!

- কোরবানির পশু সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে!

- এ জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে শিক্ষিত তরুণ-যুবকদের কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে!

- কোরবানির পশুর চামড়া ন্যায্যমূল্যে কেনার সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে!

১৪। করোনা সম্পর্কে মৌলবাদী ধর্মান্ধ প্রচারণাকে নিষিদ্ধ করতে হবে, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রচার-প্রোপাগাাকে জোরদার করতে হবে!

১৫। বন্যাকবলিত জনদুর্ভোগ লাঘবে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ ঔষধের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে!     

- নদী ভাঙ্গা জনগণের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে!

১৬। ক্রসফায়ার, বন্দুক যুদ্ধের নামে বিচার বহিভর্‚ত হত্যা বন্ধ করতে হবে!

উপরোক্ত জরুরী ও আশু দাবির ভিত্তিতে গণআন্দোলন গড়ে তুলুন, জোরদার করুন- (সম্পাদনা বোর্ড)

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র